সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন

লালমনিরহাটে একটি স্কুলের বিশাল বিশাল গাছ কেটে সাবার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী গাছগুলো কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশাল বিশাল এ গাছগুলো কেটে ফেলায় ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিঘœ ঘটছে বলে দাবি করছেন ওই স্কুলের অভিভাবকরা।
জানা গেছে, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে সোভা বর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায় বিদ্যালয়টির চার দিকে ও পুকুর পাড়ে বেশ কিছু ফলজ ও বনজ গাছ লাগানো হয়। ২৫/৩০ বছর বয়সি এ বিশাল বিশাল গাছগুলো বিদ্যালয়ের চার দিকে সোভা বর্ধন করছিল। পরম যতেœ বড় করা এ গাছগুরোতে লোলুপ দৃষ্টি পরে নবনিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ইউসুব আলী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাশেম আলী সরকারের।
এসব গাছ কেটে বিদ্যালয়ের আসবাব পত্র তৈরীর অজুহাতে বিক্রি করেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ও হাইকোর্টের স্থাগিতাদেশ প্রাপ্ত পরিচালনা কমিটির সভাপতি। প্রথম দিকে গত শনিবার(২৪ মার্চ) ৪টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হলে অভিভাবক ও এলাকাবাসী তার প্রতিবাদ করে গাছগুলো আটক দেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়টির কথিত সভাপতি কাশেম আলী সরকারের ভারাটে বাহিনী জোরপুর্বক একটি গাছ নিয়ে যান। পরে জনতার প্রতিবাদে বাকী ৩টি গাছের পাতাহীন খন্ডগুলো বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলে রাখে।
বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ইফাত জাহান রীতি, ষষ্ঠ শ্রেনীর সাদিয়া খানম ও নবম শ্রেনীর সুমাইয়া, সজিতা রানী ও দীতি মোহন্ত জানান, গাছগুলো প্রকৃতির পরিবেশই নয়, ক্যাম্পাসের পরিবেশ বজায় রাখছে। চার দিকে গাছ থাকায় বিদ্যালয় মাঠে খেলাধুলার পরিবেশও সুন্দর ছিল। কেটে নিলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ রুক্ষ ও ধুসর হয়ে পড়বে। তারাও গাছগুলো রক্ষা করতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিদ্যালয়টির অভিভাবক রমজান আলী, দীনবন্ধু, শাহানুর আলম বসুনিয়া ও আইমা বেওয়া জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখতে মহামান্য হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। যা অমান্য করে অবৈধ্য ভাবে সভাপতি দাবি করা কাশেম আলী সরকার টাকার জোরে গোপনে ইউসুব আলীকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এখন তারা বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষাকারী মুল্যবান গাছগুলো বিক্রি শুরু করেছেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে কাশেমের লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে হেনাস্তা করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের (হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ) সভাপতি কাশেম আলী জানান, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে। যা কমিটির সিদ্ধান্ত মতেই করা হয়েছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ইউসুব আলী জানান, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে গাছ কাটা হচ্ছে। এ বিষয়ে রেজুলেশন করা হয়েছে। তবে তা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, রেজুলেশন বহি তার বাসায় রয়েছে। এর বাহিরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com